WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Saturday, June 17, 2017

*****অমরনাথের পথে শ্রীশ্রীমহারাজ ও আমি******

*****অমরনাথের পথে শ্রীশ্রীমহারাজ ও আমি******   
শ্রীশ্রীমোহনানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের অলৌকিক ঘটনার নীরব দর্শক ও সাক্ষী  হবার সুযোগ ও সৌভাগ্য আমার এ জীবনে হয়েছে তাঁরই অসীম করুণায় ।
আজ নূপুর তার জীবনের বালুকা বেলায়  সেই অবিস্মরণীয় স্মৃতির পাতা খুলে 
আশৈশব মহারাজের সান্নিধ্য পেয়েছি। 1976 এ অমরনাথ দর্শন  শ্রীশ্রীমহারাজের সাথে এই ক্ষুদ্রতম  জীবনে এক পরম প্রাপ্তি। 
তখন খুব ছোটো । একা একাই  মহারাজের টানে বাবুপার্টির সাথে  গেছি তাই তিনি সর্বদা নিজের কাছে কাছে রাখতেন ও আমার "ছোট্ট মেয়ে "বলে ডাকতেন ।
অমরনাথ দর্শন  সেরে শেষনাগে বিশ্রাম। প্রবল ঠান্ডায় তাঁবুতে রাতের আশ্রয় । ক্লান্ত অবসন্ন সহযাত্রীরা যে যার তাঁবুতে বিশ্রামরত।  
কিন্ত সেই ছোট্ট মেয়েটা তো মহারাজকে দেখতে পাচ্ছে না কোথাও? কোথায় তিনি ?!!
তাঁবু থেকে বেড়িয়ে কালো অন্ধকারে তারায়  ভরা আকাশ ---
কিছুই দেখা যায় না ----ছোট বড় উঁচু নীচু নানা পাথর ছড়ানো ---শুধু চড়াই আর উৎরাই।   এক পা চলি আর হোঁচট খাই । চারিদিকে নিস্তব্ধ প্রকৃতির মধ্যে আমি একা । 
চলতে চলতে হঠাত সামনে দেখি বরফাবৃত বিরাট ধূম্র পাহাড় !!
পিছন ফিরে দেখি কোথায় তাঁবু। কিছুই দেখা যায় না ।
আবার পিছন দিকে চলতে শুরু করলাম । কিছু দূর গিয়ে দেখি সামনে এক নদীর ঠান্ডা স্রোত বইছে --------
আমি একা দাঁড়িয়ে আছি । ঠান্ডায় হিম শরীর !!!.......জনমানবহীন। ....কেউ কোথাও নেই । চারিদিক নিঝুম ---অনন্ত প্রকৃতির কোলে তারায় ভরা আকাশের নীচে আমি হারিয়ে গেছি ।
মহারাজের কথা মনে পড়ছে । কান্না পেলেও কাঁদতে পারছি না। 
হঠাত দেখি অন্ধকারের বুক চিরে একটা আলো আসছে অনেক দূর থেকে-------  সেই আলোটা দেখে চলতে চলতে দেখি আলোটা আরও বেশি জোরালো হয়ে যেন  আমার দিকে Focused হয়ে আসছে !!
 মনের মধ্যে কে যেন ডাকছে -----" আয় আয় ...আয় আয়"
 আমার  দুটি চোখ আলোকের ছটায় উদ্ভাসিত!!!
সেই তীব্র আলোর ছটায় কিছু ঠাহর হয় না------
সেই কোন ছোট্টো বেলার সেই অপার্থিব অনুভূতি আজ ভাষা দিয়ে প্রকাশের ক্ষমতা আমার নেই!!!
 বেশ অনেকটা চলার পর দেখি সামনে একটা কাঠের ছোট বাড়ি। সেই বাড়িটার একটা ঘরের মধ্যে থেকে আলোটা আসছে। ঘরটার কাছে গিয়ে দেখি মহারাজ একটা বড়  টর্চলাইট আমার মুখের ওপর ফেলে আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন আর মুখে এক আশ্চর্য হাসি !!
আর সব থেকে আশ্চর্যতম  তার চোখের দৃষ্টি!!!!----সে দৃষ্টির দিকে আমি যেন তাকাতে পারছি না। মহারাজ একহাত বাড়িয়ে আমার হাতটা ধরতে গেলেন------- 
আর আমি একছুটে ঘরের বাইরে গিয়ে চলে গেলাম।বুকের মধ্যে ,মনের মধ্যে কি হচ্ছে সে বলতে পারবো না। মহারাজ টর্চ নিভিয়ে বাইরে এসে মিষ্টি সুরে  ডাকলেন....... 
"এসো  ঘরে এসো । "
ঘরের মধ্যে ২/৩ টি ক্ষীণ মোমবাতির আলো জ্বলছে। মহারাজ ঠাকুরের আসন হতে  প্রসাদের থালা থেকে কিছু ফল আর নাড়ু তুলে  আমার হাতে দিলেন। 
---''নাও খেয়ে নাও খুব ক্ষিদে পেয়েছে তাই না ?"
আমি প্রসাদ হাতে কাঠের ঠান্ডা মেঝেতে বসে পড়লাম তাঁর চরণের কাছে। মহারাজ ও বসলেন আমার ঠিক পাশে। ......
আমি খাচ্ছি আর তিনি পরম স্নেহে আমার মাথা থেকে পিঠে হাত বোলাচ্ছেন -----
---"পথ হারিয়ে ফেলেছো তাই না ?---কোনো ভয় নেই তোমার ---আমি তো আছি।" 
---"এখনই বাবু এসে পড়বে। ও তোমায় তাঁবুতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। "
   হঠাৎ আমার কি হলো জানি না -------!!!
আমি হাতের প্রসাদ ফেলে অঝোরে তাঁর কোলে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করলাম। শুধু কেঁদেই যাচ্ছি ---সে কান্না যেন থামে না --------
সেই নীরব নির্জন রাতে নিস্তব্ধ বিশ্ব প্রকৃতির বুকে আমি আমার পরম  দিব্য দেবতার কোলে মাথা রেখে কাঁদছি ------
আজ মনে হয় যেন সেই অপার্থিব লীলা এক রূপকথা!! সত্যি কি এমন হয়েছিল!! অমরনাথের পথে  এই দৈব ঘটনা আমার জীবনের এক পরম সম্পদ। ।
আজ তাঁরই অমোঘ ইচ্ছা ও কৃপা শক্তি বলে নূপুরের হাত দিয়ে লিখিত হলো। 
===============================================        


Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate