WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Friday, May 1, 2015

*** শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী:শ্রীভগবান ও ভালোবাসা***

*** শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী:শ্রীভগবান ও ভালোবাসা***  
প্রেমাবতার শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী

প্রশ্ন : শ্রী ভগবানকে  কিভাবে  ভালবাসতে হয় ?
উত্তর :শ্রী ভগবানকে নিজের চির  আপনার জন ভেবে  ভালবাসতে হয়। 
যে ভালবাসার মূলে নিজের স্বার্থ,নিজের অনুকুলতা ও নিজের আনন্দ উদ্দিষ্ট হয় তা ভালবাসা নয়, তাহা কামনা। মানুষ এই আত্মকেন্দ্রিক মিথ্যা ভালোবাসাকে তার মনোকল্পিত দেবতা ,বা বস্তুতে আরোপ করে।কিন্তু এই ভালোবাসা   কোনো কারণে যদি প্রতিহত হয়,তবে তাহা মনে বিপুল অভিমান ,ভালোবাসার পাত্রের প্রতি বিরুদ্ধ আচরণেও পরিনত হয়। 
   "আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা ধরে কাম নাম ,
     কৃষ্নেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা ধরে প্রেম নাম "
বস্তুনিষ্ঠ যে ঐকান্তিক ভালোবাসা তাহা নদীর বেগের  মতো যত বাধা প্রাপ্ত হয় ততই গভীরতর খরস্রোতা হয়ে ওঠে
এ ভালোবাসা অহৈতুক এবং স্বাভাবিক ও আপনা হতেই উচ্ছ্বসিত ।এ ভালোবাসার জন্য ভগবানকে তাঁর ঐশ্বর্য  বা বিশালত্বের মাপকাঠিতে দেখবার দরকার হয় না.প্রাণের সম্বন্ধ যেখানে মুখ্য ,সেখানে বহির্সম্বন্ধ গৌণ হয়ে পড়ে. তাই মহাভাগা গোপীগণ দ্বারকা বা মথুরার ঐশ্বর্যাসীন  শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে বৃন্দাবনের মধুর কৃষ্ণ কেই হৃদয় দান করেছিল।রাজার ঐশ্বর্য বৈভব ,রাজার মাকে স্তম্ভিত করতে পারে না.কারণ মা তো  শুধু রাজার রাজকীয় আরম্বড়  দেখেন না,মা তাঁর মধ্যে নিজের স্নেহাস্পদ সন্তানকে দেখেন।তাই প্রজা ও অধীনস্থ রাজকর্মচারী দের নিকট রাজা ,বিরাট,মহান,ও ভয়ংকর হলেও ,মাযের কাছে তিনি বরণীয় ,রমণীয় ও কমনীয়। তাই প্রেমিকের কাছে বিচার,তর্ক বা বিশ্লেষণ করে প্রেমাস্পদকে দেখবার অবকাশ থাকে না. সেখানে নিত্য ক্ষরিত রসের পরিবেষণ  ও রসের আস্বাদন।

*** শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী:শ্রীভগবান ও ভালোবাসা***  
প্রতিকূলতার মধ্যেও যে ভালোবাসা ও ভাবধারা স্তিমিত ,শিথিল,বা অন্তর্হিত না হয় ,জানিও তাহা সংস্কারগত হয়ে গেছে।সে জীবনে ত্রুটি,বিচ্যুতি নেইভগবত সান্নিধ্য লাভের জন্য উন্মুখ চিত্তটিকে ভগবান সংসার বন্ধনে রাখেন নাউন্মুক্ত বিহঙ্গের মতোই তার দৃষ্টি উদাসীনতায় ,বিবাগিতায় ,নিয়ত বন্ধনহীন। সে তাই অনুভব করে। যেখানে ভগবত প্রেম নিবিড় ,অবিমিশ্র ও অকপট সেখানে বহির্মুখতা নেই। বাহিরের  শত  প্রলোভন ,আকর্ষণ তার চিত্ত হতে কখনো ভগবানের প্রেম ,সৌন্দর্য ,মাধুর্য কে শিথিল করতে পারে না। বরং তুলনা ও অনুভূতি দ্বারা অন্তরের এই পরম সৌন্দর্য  ও সত্য কে সে আরো দৃঢ়তর করে নেয় । তখন সকল অবস্থাতেই তার জীবনের অগ্রগতি অপ্রতিহত ও অবাধ।    

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate