WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Monday, June 15, 2015

***আমার জীবনে শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ***শ্রী শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা***

***শ্রী শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা***
***আমার জীবনে শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ***

আমার জীবনে শ্রীমোহনলীলা নানা বিচিত্র ভাবে বিভক্ত। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়--"শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ"
১৯৭৭ সালে আমার জীবনে এক মহা অলৌকিক ঘটনা ঘটে।ঐ সময় আমার মন দিবারাত্র শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমোহনের ধ্যানে নিমগ্ন থাকতো। একদিন রাত থেকে আমার মধ্যে এক অভূতপূর্ব ভাবের স্ফুরণ হয়।ঐ সময় সকাল থেকে রাত এক দিব্য ভাবে আছন্ন হয়ে,অর্ধ-চৈতন্য অবস্থায় থাকতাম। প্রায় ১৫/২০ দিন ঐ অবস্থা স্থায়ী হয়েছিল।ঐ শ্রীমোহন ভাব  অবস্থায় সারাক্ষণ শ্রীকৃষ্ণ ,শ্রীবিষ্ণু ,শ্রীগৌরাঙ্গ রূপে শ্রীমোহন -এর দিব্য জ্যোতির্ময় রূপ ও লীলা  দর্শন হত।মুখ দিয়ে অনর্গল শ্রীগীতা ,ভাগবত ও সংস্কৃত স্তব স্তোত্র,বৈষ্ণব পদাবলী বলা হতো ও সুন্দর মুক্তাক্ষরের মত হাতের লেখায় একটানা শ্রীমোহন-এর দিব্য লীলাকথা  ও বাণী লেখা হয়ে যেতো। পরে শ্রী শ্রীমহারাজ নিজ হস্তে সাক্ষর ক'রে ওই দিব্য অলৌকিক লেখার নাম দেন ,---"দৈববাণী "
আমার বাবা ক্রিয়ায়োগী ছিলেন।শ্রীশ্যামাচরণ লাহিড়ি বাবার থেকে direct  trance -এ সহজ ক্রিয়ায়োগ পান।বাবা পরে আমায় বলেছিলো----"তোর্ মধ্যে ঐ সময় মহারাজ নিজে প্রবেশ করেছিলেন।যোগের পরিভাষায় পরকায় প্রবেশ।"
 মামাবাড়িতে তখন আমার স্নেহময়ী দিদিমা,তিনি  এসব আধ্যাত্মিক তত্ত্ব বুঝতে না পেরে আমার বাবাকে বলে,---"মেয়েটা কি শেষে পাগল হয়ে যাবে ;তুমি এখনি ডাক্তার দেখিয়ে  ওষুধ খাওয়াবার ব্যবস্থা করো।"
বাবার মুখের শোনা কথা---"আমি বেহালায়  তোর্ মামাবাড়ী থেকে বেড়িয়ে ৩৫ নম্বর ট্রামে উঠেছি।কি করব ভাবছি। হঠাত ট্রামে পরিষ্কার মহারাজ কে দেখলাম--তর্জনী তুলে গম্ভীরভাবে বললেন,"খবরদার !ওকে পাগলের ওষুধ খাওয়াবে না !! কারণ  দেহের মধ্যে আমি আছি !!"
     
প্রাণকৃষ্ণদা (শ্রীপ্রণবানন্দ ব্রহ্মচারী )আমার মামাবাড়ীতে আসতেন।ছোট থেকেই আমাকে বিশেষ স্নেহ করতেন।প্রাণকৃষ্ণদা ঐ সময় আমাকে দেখতে আসেন ও আমার দিদিমাকে বলেন,--"মা,জন্ম,জন্মান্তরের সুকৃতি বলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই কৃপা এই মেয়ের পবিত্র  আধারে নেমে এসেছে।আপনারা গুরুমহারাজ কে জানেন। কিন্তু জন্মসূত্রের  দৈবসংস্কারে শ্রীমহারাজ ওকে শ্রীকৃষ্ণ রূপে ধরা দিয়েছেন,ও ওর  দেহের মধ্যে প্রকট হয়েছেন।এই ভাব ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যাবে।গুরুমহারাজ ছাড়া বাইরের কাউকে এসব জানাবেন না।"

আজ ২০১৫ সালে,শ্রী শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা লিখতে বসে ,সেই মহা অলৌকিক দিব্য লীলা শ্রীমোহন যেভাবে লেখাবেন ,সেভাবেই লেখা হবে।কারণ,ওই সময় main যে ডায়েরি,যাতে শ্রীমোহনলীলা রহস্য,এসব লেখা হয় ,শ্রীমহারাজ নিজে নিয়ে চলে যান।"দৈববাণী " লেখা খাতা যার প্রতি পাতায়  শ্রীমহারাজ "শ্রীমোহনানন্দ ব্রহ্ম "এইভাবে   নিজের  সাক্ষর করেন,পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।তবে এই "দৈববাণী " শ্রীমহারাজ-এর দৈব নির্দেশে আমার দাদু ২০০ copy  মাত্র বই আকারে প্রিন্ট করেন।তার ১০০ copy মহারাজ নিয়ে চলে যান। infact, ঐসময়ের যা কিছু ঘটনা ,evidence তা যাতে বাইরে প্রকাশ না হয়,প্রভুর সে রকম-ই নির্দেশ ছিল। 

এই কারণে তাঁর শ্রীমুখের আদেশ পেলেও ,আমি নিজের উদ্যোগেশ্রী শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা" লেখার কোনো চেষ্টা করি নি। আজ ৩৭ বছর বাদে তিনি যখন নূপুরযন্ত্র দিয়ে তাঁর অমৃত লীলা লিখছেন ,সে ইচ্ছাময় মোহন হরি-র ইচ্ছা।এ লেখা কতদূর লেখা হবে,বই আকারে প্রকাশ পাবে কিনা ,প্রভু জানেন,আমি জানি না। এভাবে ব্লগ ও ফেসবুক  এ যতদিন লেখাবেন,লিখে যাব। তবে যেহেতু তাঁর জন্মতিথি ও আমার জন্মদিন আবার ২০১৫ তে একদিনে পড়েছে ,এই বিশেষ যোগে এই লেখা সম্পূর্ণ হয়ে তাঁর জন্মতিথিতে তাঁর শ্রীচরণে অর্পিত হবে,এই আশা রাখি।      
শ্রীমোহনানন্দ  লীলা কেহ নাহি জানে। 
কাঁহা হইতে রচিত হয় কাহার বিধানে।  
কলিকালে কৃষ্ণ আসি কৈল অবতার। 
নিজ নাম,প্রেম ধর্ম করিতে প্রচার।
ঐ সময় এইরূপ পয়ার ছন্দে ,পাতার পর পাতা লেখা হয়েছিলো। সেসব আমার স্মৃতিতে নেই।আজ শ্রীমোহন তাঁর ভক্তদের প্রতি কৃপায় লেখনী দিয়ে  যখন যা লেখাবেন,তাই লেখা হবে।শ্রীমোহনলীলার রস পিপাসু 
আগ্রহী ভক্তরা নিয়মিত ফেসবুক ও ব্লগ এ চোখ রাখবেন,এই অনুরোধ করি।   
***জয় শ্রীমোহনানন্দ হরি জয়তু***                                                                                                                           

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate