WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Tuesday, June 16, 2015

***"শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ "-২***শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা***

***শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা***
***"শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ "-২***

যে সময় শ্রীমোহন ভাব ও আবেশ নূপুর দেহের মধ্যে আসে,ওই সময় দিবারাত্র শ্রীমোহন দর্শনে,ধ্যানে,  আমার জাগরণ স্বপ্ন ও সুষুপ্তি ,রাত দিন সব এক হয়ে গিয়েছিল।একদিন সকাল থেকেই চৈতন্য  মহাপ্রভু ও রায় রামানন্দ সংলাপ নিয়ে শ্রীমোহন ও আমার মধ্যে ভাবে আলাপ শুরু হয়;আমার মধ্য থেকে প্রশ্ন  ওঠে ও শ্রীমোহন তার  ভাব গম্ভীর  কন্ঠে উত্তর দিতে থাকেন--মধুর রসের কথায় সম্বন্ধ জ্ঞান এসেছে। শ্রীমোহন বলেন,--"প্রেমের চরমতম ভূমিতে সম্বন্ধ জ্ঞান লয় হয়ে যায়।শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেম নিরুপাধি , কোনো সম্বন্ধের অধীন নয়,উহা প্রেমের অধীন।প্রেমেই তার পরিপূর্ণতা ,তার কোনো আদি অন্ত নেই।প্রেম কোনো সম্বন্ধ বন্ধনে শ্রীকৃষ্ণের সাথে পূর্ণ মিলন সুখ আনতে পারে না ----"এইরূপ আলোচনা নিরন্তর চলতে থাকে।

শ্রীমোহন -এর "দৈববাণী "যেন আকাশ থেকে সুমধুর ঝংকার -এর মতো কানে ভেসে আসত।পরে শ্রী শ্রীমহারাজ আমায় বলেন,---"যোগীরা অনাহত ধ্বনি শোনেন,তুমি আমার "দৈববাণী " শুনতে।নাদব্রহ্ম -এর সাথে সদাসর্বদা যুক্ত থাকলে ঐরূপ হয়।"
আজ আমার মনে হয় ,এই "দৈববাণী " প্রেমময় শ্রীমোহন -এর অহেতুক কৃপা ছাড়া অসম্ভব ।তিনি তাঁর অসীম কৃপায় এই অপরূপ মোহনলীলা এই নূপুর-এর দেহ মধ্যে সঞ্চার করেছিলেন।            
          
ঐদিন মাঝ রাত্রে এক অপূর্ব দর্শন হয় !আমি দেখি , শ্রীবৃন্দাবনে এক ভাঙ্গা মন্দিরে অচেতন অবস্থায় আমি পড়ে আছি---ভোরের আলো তখন ফোটে নি ,হঠাত কে যেন আমার গায়ে শান্তির জলের মতো জল ছিটিয়ে দিলো ,আর আমি অচেতন অবস্থা থেকে উঠে বসলাম ---দেখলাম একটু দূরেই সোনার গৌরাঙ্গরুপী  , শ্রীমোহন হরিনাম কীর্তন করতে করতে এগিয়ে চলেছেন,বহু নর নারী তাঁর পিছে পিছে চলেছে---আমি ছুটে গিয়ে তাঁর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়লাম। তিনি তখন দুবাহু ঊর্ধে তুলে বড় সোনার করতাল নিয়ে "ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম। জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম "গাইতে গাইতে এগিয়ে চলেছেন। শ্রীচরণ দুটি নামের তালে তালে দুলছে --আর ঐ শ্রীচরণের তালের স্পর্শ আমার মাথার উপর পড়ছে----ঐ সময় আমার সমগ্র সত্তায় এক অনাস্বাদিত আনন্দ অনুভূতি,যা কখনই কোনো ভাষা প্রকাশ করতে পারে না,অনুভব হয় ...আজও  আমি সেই আনন্দ  কি,বলতে পারব না!মাত্র ২/৩ সেকন্ডের জন্য ওই অভূতপূর্ব  আনন্দ আস্বাদন অনুভব হয়েছিলো।
   
ঐ সময় আমি শোয়া অবস্থায় পরিষ্কার বুঝতে পারি ,আমার মধ্যে কে যেন অঝোরধারে কাঁদছে। অথচ সে কান্না আমি কাঁদছি না ,অন্য কেউ।তখন  মাঝ রাত,উঠে বসতেই হাত দিয়ে এই লেখা হয় --- 

নিমাই কহেন যাহা "এহ বাহ্যে নাহি রয় "
এক্ষণে পাইলি তাহার পরিচয়। 
নিজমনে রচিলা নিধু বৃন্দাবন 
অর্ধরাত্রে করিলি তাহার পূজন। 
মানসে যুগল রাধাকৃষ্ণের সেবন 
ধন্য হইলো এ মানব জীবন। 
দরশন আশা তোর্ হইলো পূরণ 
সিদ্ধ দেহে শ্রীচরণ করি পরশন।
সব মায়া,মোহ ভ্রান্তি হলো নিরসন 
চিরতরে কৃষ্ণ পদে হইলি মগন। 
সে রাঙ্গা চরণ এবে কুঞ্জবনে যায় 
যতেক নরনারী সবে পিছে পিছে ধায়।
চন্ডীদাস ভণে মুই তাঁর দাস 
চিরদিনে যেন তার হৃদিকুঞ্জে বাস।
চিরজনমের মোর এই অভিলাষ 
নূপুরেই এবে তবে মিটাইল আশ।
-------------***-----------------
এই পদ পাঠ করে মনে হয়--বৈষ্ণব পদকর্তা  চন্ডীদাস যেন নূপুরের দেহ কে আশ্রয় করে প্রভুর শ্রীচরণ স্পর্শ করে ধন্য হলেন ও  এই পদ রচনা করলেন।নূপুরের মধ্যে কান্নাও তিনি-ই কাঁদলেন।পরে  চন্ডীদাস ও আরো অনেকের -এর সুমধুর কৃষ্ণ পদাবলী লেখা হয়।শ্রী শ্রীমহারাজ তার নাম দেন "কৃষ্ণ-গাথা "ও স্বহস্তে  তাঁর বাণী লিখে দেন।"শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা"বইতে "কৃষ্ণ-গাথা " পদাবলী সংযোজন করার ইচ্ছা রইলো।
***জয় শ্রী শ্রী মোহনানন্দ হরি জয়তু ***  
                                                      
  

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate