WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Friday, June 19, 2015

***"কাল রাতের সেই ছেলেটা--চিনতে পারলে নাতো ?"*** ***শ্রীমোহন আনন্দে আমার জীবন***

***"কাল রাতের সেই ছেলেটা--চিনতে পারলে নাতো ?"*** 
***শ্রীমোহন আনন্দে আমার জীবন***  
তখন চৈত্র মাসের শেষ  ,সাল মনে নেই।বোলপুর স্টেশন এ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। All India Tour সেরে মহারাজ বোলপুর আসছেন।আমার দিদিমা ঐ tour এ গেছেন।তিনিও মহারাজের সাথেই ফিরছেন।দিদিমাকে শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আমি আর মাসী দুজনেই এসেছি। ট্রেন বেশ লেট ছিল।তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।ট্রেন -এ মহারাজের বগি আসতেই ,আমি আর মাসী তাড়াহুড়ো  করে ,উঠে পড়লাম।দিদিমার মালপত্র ও একটা বড় বালতি এসব নিয়ে আমাদের নামতে হবে। মহারাজের দর্শন ,প্রনাম হলো।তিনি প্লেনের ticket সংক্রান্ত কিছু কাজের কথা মাসীকে বলতে লাগলেন ,আমিও পাশে  দাঁড়িয়ে ----কথা বলতে বলতেই স্থির অন্তর্ভেদী দৃষ্টি মেলে এক একবার আমার দিকে দেখছেন,ও চোখ নামিয়ে নিচ্ছেন। কথা শেষ হলো। হঠাত ট্রেন -এর বগিটা নড়ে উঠলো। তার মানে এবার shunting-এ যাবে,platform থেকে কত দূরে বগি লাগাবে ,কে জানে !কিছুদূর গিয়ে একটু থামতেই মাসী আমার হাতে দিদিমার  ব্যাগ আর বড় বালতিটা দিয়ে বলল ,----"তুই আগে নাম ,আমি মাকে নিয়ে নামছি---"আমি সেই ব্যাগ আর বালতি নিয়ে ,কোনরকমে বগি  থেকে নামতে না নামতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।

মহারাজ কে নিয়ে ট্রেন কোন অন্ধকারে মিশে গেল----আমি একা ব্যাগ,বালতি হাতে দাঁড়িয়ে আছি। পাশ দিয়ে দুজন খারাপ লোক ধাক্কা দিয়ে ,বিশ্রী সিটি দিয়ে চলে গেল। হঠাত আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে ,কালবৈশাখী ঝড় তেড়ে এলো ----সে  কী  আকাশের তর্জন ,গর্জন আর বজ্র বিদ্যুতের চমকানি !!এখনি প্রবল বর্ষণ শুরু হবে!!!আর আমাকে রেল লাইন পেরিয়ে ওপারে যেতে হবে !হঠাত একটা ৭/৮ বছরের ছোটো ছেলে কোথা থেকে এসে আমার হাত থেকে বড় ভারী বালতিটা টেনে নিয়ে নিল ,আর এক হাতে আমার হাতটা ধরে প্রায় টানতে টানতে রেল লাইন পেরিয়ে আমাকে ওপারে ছুটতে ছুটতে নিয়ে এসে, একটা বড় শেড এর নীচে দাঁড় করিয়ে দিল। সেখানে অনেক লোক।তারপরেই অবিশ্রান্ত মুষল ধারায় বৃষ্টি শুরু  হলো। ছেলেটাকে কিছু বলার আগেই অন্ধকারে কোথায় যে ছুটে চলে গেল !আর দেখতে পেলাম না !!

পরদিন সন্ধ্যায় মহারাজ শান্তিনিকেতনে এক ভক্তগৃহে পদধূলি দিতে এসেছেন।একটা খুব সুন্দর বাগান ঘেরা বাড়ী।  আমরাও সাথে আছি। তিনি শ্রীচরণ দুটি প্রসারিত করে বসে আছেন। যাদের বাড়ী তারা চন্দন ,তুলসী ও সুবাসিত জল দিয়ে তাঁর শ্রীচরণদুটি ভক্তিভরে ধুইয়ে দিয়ে, বাড়ীর বাগানের ফোটা  গোলাপ ও  সুগন্ধী ফুল দিয়ে গাঁথা মালা  তাঁর গলায় পরিয়ে দিলো। সুগন্ধী ফুল দিয়ে তাঁর চরণদুটিও সাজিয়ে দিলো। সঙ্গে বেশী ভিড় নেই--- মহারাজ বললেন ,---গান করো "জয় কৃষ্ণ হরে ,শ্রী কৃষ্ণ হরে "---আমরা গাইতে শুরু করলাম --কৃষ্ণ নামে মহারাজের  শ্রীমুখ আনন্দে ঝলমল করে উঠলো !!গান শেষ হতেই বললেন ,--"চলো এবার ওঠা যাক ,আরো বাড়ী যেতে হবে।" মহারাজ উঠে দাঁড়াতেই তাঁর শ্রীচরণের ঝরে পরা ,একটি ফুল তুলে নিতে কাছে যেতেই,মাথায় খুব মৃদু স্পর্শ করে, খুব মৃদু কন্ঠে  বললেন,---"কাল রাতের সেই ছেলেটা--চিনতে পারলে নাতো ???" আমি মুখ তুলে ,কিছু বলার আগেই জয়ধ্বনি-র সাথে দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেলেন।

হে আমার প্রাণের ঠাকুর !তোমারে পাছে সহজে বুঝি ,তাই কী এত লীলার ছল!!আজও সেই ছোট ছেলেটাই তো জীবনের ঘোর দুর্যোগময় রাতে ,আমার সব ভার বয়ে নিয়ে চলেছে ----আমি তাকে চিনতে পারি আর না পারি ,সে আমার হাত ছাড়ে নি।               
              

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate