WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Monday, June 22, 2015

***জয়পুর মন্দির বৃন্দাবন :শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমোহন ***শ্রীমোহন আনন্দে আমার জীবন***

***জয়পুর মন্দির বৃন্দাবন :শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমোহন *** 
***জয়পুর মন্দির বৃন্দাবন :শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমোহন *** 
শ্রীশ্রী মহারাজ ১৯৯৯সালে  অপ্রকট হবার পর ২০০৫ সালে দোলের  আগে বৃন্দাবন যাই,একাই ----আমি চিরকাল একা ভ্রমণ করতেই ভালোবাসি।আগে মহারাজের সাথে বৃন্দাবন এসেছি,তার মোহন আনন্দ লীলার সাথী হয়ে--- এবারে এসে মনে হলো,আকাশ,বাতাস চারিদিকে তাঁর মোহনস্পর্শ ছড়িয়ে রয়েছে,"রাধে, রাধে" নামে বৃন্দাবন মুখরিত।তবু মন খুঁজে ফেরে তাঁরে --
"হে মোহনকৃষ্ণ ,কোথায় লুকায়েছ মোর আঁধার গহন বনে ----"
মহারাজের আশ্রমের খুব কাছেই জয়পুর মন্দির।বিশাল রাজপ্রাসাদের মধ্যে মন্দিরে  রাধামাধব বিগ্রহ আসীন।আমি প্রায় দিনই বিকাল হলেই ওই মন্দিরে চলে যেতাম।একান্তে বসে জপ ,ধ্যান করতাম ,কখনো প্রাসাদের নানা স্থাপত্য কার্য দেখতাম।দোলের সময় বৃন্দাবনের বিখ্যাত সব মন্দিরে খুবই ভীড়।জয়পুর মন্দিরে সে ভীড় নেই----বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে যেখানেই যাই না কেন ---জয়পুর মন্দির আমাকে ভীষণ টানতো।



সেদিন আসতে একটু সন্ধ্যা হয়েছে -----গেট থেকে অনেকটা পথ পেড়িয়ে মন্দির ,মনে হলো দূর থেকে কে যেন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে ----মন্দিরের প্রবেশ পথে গিয়ে দেখি কেউ নেই---ভিতরে  গেলাম --কয়েকজন দর্শনার্থী রয়েছেন---তারাও একে একে চলে গেলেন। একটু পরেই সন্ধ্যা আরতি হয়ে মন্দির বন্ধ হবে। হঠাত একটা বড় থামের পাশে দেখি মহারাজ,মুখে সেই মোহন মধুর হাসি !!আবার তাকিয়ে দেখি কেউ নেই !মনে মনে  ভাবলাম -----সারাজীবন তো তোমার এই লুকোচুরি খেলা---এ খেলা তোমার কোনদিনই শেষ হবে না !!দেখা দিয়ে লুকিয়ে পরা ,আর ভক্ত কে পাগল করা ----দূরে গেলেই আবার বাঁশী বাজিয়ে ডাকা !এইসব মনে মনে ভাবছি ---পুজারীজী আরতির জন্য উঠে দাঁড়ালেন --আমি ও উঠে দাঁড়ালাম --পাশে স্পষ্ট অনুভব করলাম ,মহারাজ দাঁড়িয়ে আছেন!! ---তাঁর শ্রীঅঙ্গের চির পরিচিত সেই মধু সৌরভ!!চোখ বুজে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম ----যতক্ষণ তাঁর শ্রীঅঙ্গের মধু গন্ধ অনুভব করা যায়। চমক ভাঙ্গলো পুজারীজীর ডাকে ----"বহেনজী প্রসাদ লিজিয়ে ----আপ তো হররোজ আতে হ্যায় --আজ ক্যা প্রভুজী কো  দর্শন মিলা--আপ ইতনে মগন থে---ইস লিয়ে পুছা  ?"আমি বললাম --"পতা নহি ---"

ধীরে ধীরে জয়পুর মন্দির থেকে আশ্রমে ফিরে এলাম।ফেরার পথে বেশ অনুভব করছি,তিনি আমার সাথে সাথে আছেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর অনুভব,আমার স্বয়ংসিদ্ধ ---বুঝতে অসুবিধা হয় না। আশ্রমে আমার ঘরে প্রবেশ করেই ,কেন জানি না ডুকরে কেঁদে উঠলাম ----ছোটবেলা থেকে কতো খেলাই তুমি নূপুর -এর সাথে খেললে ---আজ সারা বৃন্দাবন হোলী তে রং খেলার আনন্দে মাতোয়ারা -----আমার যে তোমায় ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না------সকাল,বিকেল একা একা মন্দিরে,যমুনার তীরে ঘুরে বেড়াই --যদি তোমার একবার দেখা পাই --আজ তুমি দেখা দিয়েও দিলে না।


রাতে না খেয়েই শুয়ে পরলাম।কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি জানি না। স্বপ্ন না সুষুপ্তি জানি না --মনে হয় জাগ্রত  স্বপ্ন!!কারণ তাঁর স্পর্শ আমি স্পষ্ট অনুভব করেছি -----তিনি মাথার কাছে এসে বসে ,আমার মাথাটা কোলে তুলে নিলেন,---মাথায় আদর করে হাত বোলাতে বোলাতে বলছেন  ,--"এত কাঁদলে ,অভিমান করলে হয় ,আমি তো তোমার সাথে ছায়ার মতো আছি,তুমি তো আমায় দেখেও দেখো না ----"
স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।দেখলাম ঘরে আমি একা ,কেউ কোথাও  নেই ----বাইরে ঘরের লাগোয়া ছোট বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম।শুক্ল পক্ষের রাত ,আকাশ ভরা চাঁদের আলো।অনেকক্ষণ চাঁদের দিকে চেয়ে শ্রীমোহন দর্শন ও স্পর্শের কথা মনের পথে আনাগোনা করতে লাগলো ----এই সেই শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবন----তুমি টেনে এনেছ,তাই আসতে পেরেছি ,তোমার লীলা তুমি -ই জানো-----
     
ভোরের সময় আধো ঘুমের মধ্যে দেখি ----সারা ঘর জুড়ে আবছা নীল আলো --- এক অপূর্ব স্নিগ্ধতায়  যেন চারিদিক ভরে আছে ----নীল আলোর মধ্যে বাঁশী হাতে কৃষ্ণের শ্যামল সুন্দর মূর্তি চোখের সামনে ভেসে উঠলো----তারপরেই নীল আলো কমে গিয়ে স্বর্ণআলোর জ্যোতির মধ্যে শ্রীমোহন-এর প্রেমময় মূর্তি ভেসে উঠলো---সে মোহনমূর্তি ধীরে ধীরে  আমার খুব কাছে ,বুকের কাছে চলে এলো ---তখন আমার সমস্ত দেহ ,মন ,প্রাণ আত্মা জুড়ে যে কি আনন্দ বলতে পারি না !!---মনের সব ব্যথা,অভিমান যেন এক নিমিষে গলে জল হয়ে গেল ----!!তখন যেন আকাশ মধুর ,বাতাস মধুর ,চির মধুর সে বৃন্দাবন----!!! 
  
আজও সেই বৃন্দাবনের লীলা অভীরাম মনে পড়লে,এত আনন্দ হয় ---অনন্ত তাঁর লীলা ,যা তিনি ভক্তের প্রাণে নিজে এসে প্রকাশ করেন।
  বৃন্দাবনের শ্রীমোহন লীলা পরে আরো লেখার ইচ্ছে রইলো -----
     হৃদয় বৃন্দাবনে আমার প্রাণের  শ্রীমোহনকে  নানা রূপে ,নব নব লীলায় আস্বাদনের আশায় আজও চাতকের মতো দিনরাত পথ চেয়ে থাকি -----            
 " মধুর মধুর বংশী বাজে কোথা কোন কদম তলিতে----  
          আমি পথের মাঝে পথ হারলেম,ব্রজে চলিতে 
       কোন মহাজন পারে বলিতে?-----"         

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate