WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Saturday, June 13, 2015

***শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা***সূচনা ***

***শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা***সূচনা *** 

১৯৭৫/৭৬ সাল।শ্রী শ্রী মহারাজ দিল্লীতে আমার ছোটমাসীর বাড়ী  অবস্থান করছেন।রাতে কীর্তনের আগে মহারাজ চিঠিপত্র পড়ছেন আর আমাকে dictation দিচ্ছেন।আমি তাঁর শ্রীচরণ-এর কাছে বসে চিঠির উত্তর লিখছি।

হঠাত চিঠির থেকে মুখ তুলে ,খুব হাসি হাসি মুখে বললেন,---"জানতো,একটা খুব মোটা  বই হবে,বইটার নাম হবে,"শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা"---তোমাকে সেটা লিখতে হবে।"আমি অবাকদৃষ্টিতে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে রয়েছি!তখন হাসিভরা মুখে আবার বললেন,"হ্যা ,তোমাকেই সেটা লিখতে হবে---বেশ মোটা বই হবে"----বই -এর আকৃতির পরিমাণটা নিজের  শ্রীঅঙ্গুলী দিয়ে দেখালেন।তাঁর সেই শ্রীমুখের হাসির রেশ যেন কি এক অপূর্ব স্নিগ্ধতায় আমার মনকে ভরে দিলো!তারপরেই যে চিঠির উত্তর লেখা হচ্ছিল,তার dictation দিতে শুরু করলেন।

এরপর কলকাতায় ফিরে আবার সেই এক ঘটনা !রাতে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন,---"আমার লীলাগ্রন্থ"শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা"---তোমাকে সেটা লিখতে হবে।"আমি শ্রীচরণে কেঁদে লুটিয়ে পড়লাম,তিনি নীচু হয়ে মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।সেদিন যে স্বপ্নে কেঁদে ছিলাম,সকালে উঠেও সে কান্নার রেশ ছিল। তিনি যে নীচু হয়ে মাথায় হাত দিয়েছিলেন,বার বার সে কথা  মনে হচ্ছিলো,ভগবান নিজে নত হয়ে কত নীচে নেমে আসেন,তাঁর ভক্তকে স্পর্শ করার জন্য।

আজ যখন "শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা"লেখা হচ্ছে,তাঁরই অসীম কৃপায়,আমার মধ্যে সাক্ষাত অনুভব হয়,তিনি পাশে দাঁড়িয়ে dictation দিয়ে যাচ্ছেন ও হাতের পেন দিয়ে তাই লেখা হয়ে যাচ্ছে।ভুল হলে তিনি নিজেই আবার সংশোধন করে দিচ্ছেন। আর এই যে Facebook আর ব্লগ -এ লেখার সূত্রপাত ----এ  তাঁর এক পরম আশ্চর্য লীলা!!

কারণ আমি জানতাম,আমার নিজের চেষ্টায় তাঁর  লীলাগ্রন্থ "শ্রীমোহনানন্দ অমৃত লীলা",তিনি যেভাবে বলেছেন,কোনদিন লেখা সম্ভব নয়।বিভিন্ন সুত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করে,তাঁর জীবনকথা ,সত্সঙ্গ বা  তাঁর সম্বন্ধে  ২/৪ কথা  লেখা যেতে পারে,কিন্তু শ্রীগৌরাঙ্গলীলা র মতো তাঁর শ্রীমোহনানন্দলীলা
"কৃষ্ণের যতেক খেলা,সর্বোত্তম নরলীলা"---তাকে ভাষায় লিপিবদ্ধ করা ,হে আমার প্রাণের ঠাকুর,মোহন  হরি,তুমি লেখনী মুখে নিজে এসে ধরা না দিলে,নূপুরের কি সাধ্য তোমাকে প্রকাশ করে !!

আজ ১৬ বছর তোমায় ছেড়ে , কঠিন,পাষাণ প্রাণ নিয়ে এই মরজগতে কোনমতে  বেঁচে আছি----আজ তুমি এই ভগ্ন নূপুরযন্ত্র  দিয়ে ,তোমার মোহনলীলা লেখাবে প্রভু?!তোমার লীলার  কথা লিখতে বসলেই যে চোখ জলে ভেসে যায়,অশ্রু বাঁধ  মানে না-----তোমার লীলা তুমি-ই জানো প্রভু !
যাহা তব ইচ্ছা প্রিয়,করিও তাহাই ,
থাকিবো,চরণে তব লুটিয়া ----
যেন চিরতরে তব ইচ্ছা পূর্ণতম রূপে ,
হৃদয় কমলে মোর উঠে গো ফুটিয়া।                             

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate