WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Sunday, July 5, 2015

শ্রীমুখে দুর্লভ আত্ম উন্মোচন---" কী জানি আমারই দৃষ্টি পড়ল না কি ,ভালো হয়ে গেল। "

***শ্রী শ্রী মোহনানন্দ অমৃত লীলা***
শ্রীমুখে দুর্লভ আত্ম উন্মোচন---কী জানি আমারই দৃষ্টি পড়ল না কি ,ভালো হয়ে গেল। "

 শিলং -----সকাল ৮ টা জানুয়ারী ১৯৫৮
শ্রীশ্রী মহারাজ লনে পদচারণা করছেন। মাঝে মাঝে লনের একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে শিলং -এর  প্রকৃতির অনুপম শোভা সৌন্দর্য দর্শন করছেন। মাঝে মাঝে দু একটি কথাও বলছেন। সন্ন্যাসিনী আশা মা তাঁর পিছনে আছেন। 
শ্রীচন্দ্রশেখর গুপ্ত ,শ্রীশ্রী বালানন্দ মহারাজের নামে যে যক্ষ্মা সেবায়তন করেছেন ,সেই কথা প্রসঙ্গে
 শ্রীশ্রী মহারাজ বলেন -----
---"এবারকার আমার জন্মদিনে যখন কলকাতায় গিয়েছিলাম ,কি হয়েছিল জানো ? একজন যক্ষ্মারোগী তার প্রায় শেষ অবস্থা। আর এতই সংক্রামক অবস্থা যে হাসপাতালেও ডাক্তারেরা তাকে অন্যান্য রোগীর সাথে রাখতে সাহস পাচ্ছেন না। আর্থিক অবস্থাও শোচনীয়। সে ঐ গুরুদেবের নামে  যক্ষ্মা সেবায়তন-এ ভর্তি হবার জন্য আমাকে অনেক চিঠি লেখে,মিনতি করে। কিন্তু আমি কি করি----চাঁদু কে অনেকবার চিঠি লিখেও উত্তর পেলাম ,কোথাও এতটুকু জায়গা নেই।সমস্ত বেড ভর্তি। শেষে বোধহয় তার আত্মীয় স্বজনেরাই আর অন্য কোনো উপায় না দেখে  ------এই জন্মোত্সব-এর সময় আমি যেদিন সেবায়তন-এ যাই ,সেদিন রোগীটিকে সেবায়তন-এর সিঁড়ির নীচে ফুটপাথে শুইয়ে দিয়ে আসে। আমি গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছি ,তখন রোগীটি দুই হাতে আমার পা জড়িয়ে ধরে।  কি যে করি ,শেষে চাঁদু কে (শ্রীচন্দ্রশেখর গুপ্ত) বলে ছাদের উপর তখনি একটি টেম্পোরারি শেড তুলে দেবার জন্য পাঁচ শত টাকা তার হাতে দিয়ে -----রোগীটিকে সেবায়তন-এর ছাদে রাখবার সব ঠিক করে দিই। কিন্তু তারপর থেকেই রোগীটি ক্রমেই ভালোর  দিকে আসতে থাকে ----এখন একেবারেই সুস্থ হয়ে গেছে।আমাকে সে কাল চিঠি লিখেছে। "
শ্রীশ্রী মহারাজ কিছুক্ষণ লনে বেড়াতে বেড়াতে আবার বললেন ,-----"ডাক্তারেরা তো সব আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কী জানি আমারই দৃষ্টি পড়ল না কি ,ভালো হয়ে গেল। "
তিনি যখন লনে পদচারণা করতে করতে অবলীলাক্রমে অতি সহজ ভাবেই বললেন----
"কী জানি আমারই দৃষ্টি পড়ল না কি ,----ভালো হয়ে গেল। " তখন তাঁর শ্রীমুখ মন্ডল  এক অপূর্ব  দিব্য মহিমা ও সারল্যে প্রভাময় হয়ে উঠেছিলো। তাঁর মহা ঐশ্যর্যের কথাও তিনি এমন সহজ ভঙ্গীতে শিশু সুলভ মধুর চপলতার সঙ্গে বলেছিলেন যে, সন্ন্যাসিনী আশা মা অবাক হয়ে অনিমেষে চেয়ে ছিলেন। তাঁর এই শ্রীমুখে দুর্লভ আত্ম উন্মোচন-এর নীরব সাক্ষী হয়ে ছিল বিশ্ব প্রকৃতি। মৌন শান্ত মহাকাশের কোলে গোপনে কি রুদ্র মহাশক্তির খেলা চলে....বাহিরে যার কোনো প্রকাশ নেই !!!       

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate