WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Tuesday, July 18, 2017

শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের স্বহস্তে লেখা চিঠি=8


শ্রী শ্রী মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের স্বহস্তে লেখা চিঠি=8


এই পত্রে শ্রী শ্রী মহারাজ সমাজ ও সংসারে বাস করে কিভাবে সামঞ্জস্য বিধান করতে হয় তারই নির্দেশ দিয়েছেন। 
স্নেহের মা ,
                পত্রখানি পেলাম। বিরোধের মাঝে সামঞ্জস্য খুঁজে আত্ম প্রবোধন ও শান্তি লাভ এবং রাগ দ্বেষ রহিত হওয়ার জন্যই সাধনা আবশ্যক। জীবনের সর্বোচ্চ আদর্শ  সাম্য ও শান্তি লাভ করা। জগতের ও বহির্ব্যবহারের দৃষ্টিতে তাহা কেউ কখনো পেতে পারে না। কারণ বিচিত্রতাই ভগবানের বহির্বিকাশ। কিন্তু সাধনার দ্বারা মনে এমন একটি কেন্দ্র ও উচ্চ লক্ষ্য পাওয়া যায় যেখানে বহির্বিক্ষেপের কারণ অন্তরকে ক্ষুব্ধ ও লক্ষ্যচ্যূত করতে পারে নি।
গীতায় এ অবস্থার কথা আছে -----"যস্মিন স্থিতঃ দুঃখেন গুরুণাপি ন বিচাল্যতে। "
                 জগতের পৃষ্ঠ হতে ধুলা কাদা কেহই এককালে অপসারিত করতে পারে না।কিন্তু নিজের পায়ে জুতা থাকলে নিজের পা কে কেহই মলিন করতে পারে না। তাই যেখানে   মানুষ সামঞ্জস্য পায় না ,সেখানে সে নিজের  অভিমান ও বিশিষ্টতার  গৌরবকে বেশি করে আঁকড়ে ধরে আরও রাগদ্বেষ ও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে।
শিক্ষিত ও ঐশ্বর্যপূর্ণ  ধনী সমাজে যত বেশি রাগ দ্বেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভিমান এবং সামান্য ত্রূটি বিচ্যুতি নিয়ে যত বিক্ষোভ সৃষ্টি হয় ,নির্ধনদের মধ্যে তাহা সহসা হয় না। তাই যেখানে সামঞ্জস্য করা সম্ভব নয় ,সেখানে আত্ম অনুসন্ধান দ্বারা নিজেকেই দোষী গণ্য করা বা যাকে সংশোধন করা যাবে না ------বা যিনি প্রতিবিধান গ্রহণ ও প্রতিপালনে পরাংমুখ  ,তার প্রতি উদাসীন হয়েও অন্তরে অন্তরে তার কল্যাণ কামনা করতে পারলে ,নিজের যেমন মনোবৃত্তি শান্তিহারা হয় না-----অপরের মনেও হয়তো ইহাতে বহুক্ষেত্ৰে পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই করুণা ,মৈত্রী ,মুদিতা ও উপেক্ষা ----এই চার প্রকার বৃত্তি ই সাধুজন বিধেয় বলে শাস্ত্রে নির্দিষ্ট  আছে -----''         

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate