WELCOME to BENGALI BLOG of
SRI SRI MOHANANANDA BRAHMACHARI

Saturday, July 15, 2017

শ্রী শ্রী মোহনানান্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের স্বহস্তে লিখিত পত্র=১

শ্রী শ্রী মোহনানান্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের স্বহস্তে লিখিত একটি পত্র যাতে তিনি প্রণাম -এর প্রকৃত অর্থ ব্যক্ত করেছেন ------
==============================================

স্নেহের মা ,
প্রণামের আসল তাৎপর্য টি তুমি বুঝতে পারো নি। 
প্রণামের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে,....তুমি যে আমার চেয়ে হীন,আমার চেয়ে ছোটো ,আমার চেয়ে অধম ,----তুমি যে সর্বভাবে আমার একান্ত শরণাগত ও অনুগত এই ভাবটি প্রণামের ভিতর দিয়ে আমার চরণে নিবেদন করে দিচ্ছ। সেজন্য প্রকৃষ্ট রূপে প্রণাম করা ইহাও একটি সাধনা। গীতায় বিশ্বরূপ দর্শনে একান্ত অভিভূত অর্জুন  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে পূর্ণ শরণাগত হয়ে বারংবার বলছেন----"তোমাকে প্রণাম !তোমাকে প্রণাম !তোমাকে উর্দ্ধে প্রণাম ,তোমাকে অধোদেশে প্রণাম ,পূর্বে প্রণাম ,পশ্চিমে প্রণাম !সর্বভাবে,সর্বরূপে,সর্বদেশে ,সর্বকালে তোমাকে প্রণাম!
এ প্রণাম ও একটা গভীরতম সাধনা। তুমি জানতে চেয়েছো ---স্পর্শ করে প্রণামের জন্য যে আকুলতা ,তাহা অন্যায় কিনা ?না,তাহা অন্যায় কি না ?না, তাহা অন্যায় নয়। স্পর্শ করে প্রণাম করার ব্যাকুলতা মানব মনে চিরন্তন। গঙ্গার জলে নেমে স্নান করে যে তৃপ্তি ,দূর থেকে মনে মনে গঙ্গার স্মরণে কি সেই সর্বাঙ্গীন তৃপ্তি পাওয়া যায় ?
তবে যখন বিশেষ অসুবিধার জন্য বা সময়াভাবের  জন্য সর্বসাধারণের  সামনে একটা নিয়ম করে  দিয়ে থাকি ,তখন সর্বজন  সম্মুখে তাহা ভঙ্গ করা উচিত নয়। শাস্ত্রে আছে প্রথমে শ্রবণ ,তারপর দর্শন ,তারপর স্পর্শন !স্পর্শ করবার ইচ্ছা বা কামনা ও ব্যাকুলতা শাস্ত্র অনুমোদিত -----ইহা অন্যায় নয়। 

তুমি যে লিখেছো ----Inner concentration প্রণামের শ্রেষ্ঠ রূপ ----ইহা অনেকটা পাশ্চাত্ম্য মত। আমাদের শাস্ত্র বলে ---অন্ধ বিশ্বাস ও ব্যাকুলতা এই দুটি ই ধর্মের প্রধান উপজীব্য। এক একটি বিশেষ শুভক্ষণে ---জন্মোৎসবে ,গুরু পূর্ণিমায় ,নববর্ষে ,---আমার চারণ স্পর্শ করবার জন্য  ,তোমরা যে কত দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ক্লেশ সহন  করে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করো ,তাহা আমার হৃদয় কে খুবই স্পর্শ করে। 
আমাদের ভারতের দেবভূমিতে চিরন্তন এই সংস্কার। দেখো নি -----গ্রহণে সাগরসঙ্গমে কুম্ভস্নানে ভারতের তীর্থযাত্রীরা অবর্ণনীয় ক্লেশ ,বিপদ ,দুঃখ সহ্য করে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ----যাতে শুভ ক্ষণে গঙ্গায় বা পবিত্র তীর্থ বারিতে নিমজ্জন লাভে তারা ধন্য হতে পারেন। ইহাই সনাতন ধর্মের ভাব। এই দৃঢ় বিশ্বাস যে, এইসকল মাহেন্দ্র ক্ষণে তীর্থদকের মতোই শ্রীগুরু চরণ স্পর্শে তাঁরাও কৃথার্থ হবেন। এই অন্ধ বিশ্বাস মানব মনে অমূল্য ও অক্ষয় সম্পদ এনে দেয়। 
অধ্যাত্ম বিষয়ে সতাং প্রসঙ্গ করা ,Inner concentration করা এ সবের কয়জন অধিকারী আছেন জানি না -----কিন্তু আজকাল প্রণাম ও কীর্তনের মধ্য দিয়েই ,বহুজনের উপকার হচ্ছে জানবে।  স্নেহাশীর্বাদ জানিও। শীঘ্র পত্র দিও। 

Google+ Followers

Followers

Total Pageviews

Translate